বিলম্ব এড়াতে আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল বন্দরে খালাসের সময় শর্তসাপেক্ষে সাময়িক ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সেবা সহজীকরণ ও ব্যবসায়ীদের বন্দর জরিমানার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাটি। গতকাল বিএসটিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সরকার সময়ে সময়ে এসআরও জারির মাধ্যমে ২৯৯টি পণ্যকে বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত করেছে। এ পণ্যগুলোর আমদানি নীতি আদেশ ও নিয়ম অনুসারে তালিকার ৭৯টি পণ্য আমদানি করা হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত শুল্কায়নের আগে আমদানিকারককে বিএসটিআই থেকে বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী পরীক্ষণপূর্বক ছাড়পত্র নিতে হবে। একই সঙ্গে ছাড়পত্রের কপি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
শিল্পের কাঁচামাল সরাসরি বাজারে বিক্রয়-বিতরণ করা হয় না। তাই বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক পরীক্ষণ ও ছাড়পত্রের আওতাভুক্ত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানীকৃত পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে কিছু শর্তে সাময়িক ছাড়পত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানীকৃত কাঁচামাল শিল্পে ব্যবহারের উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে হবে। যে গুদামে কাঁচামাল সংরক্ষণ করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ করে যে বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করা হয়েছে সেই বন্দরসংশ্লিষ্ট বিএসটিআই অফিসে সাময়িক ছাড়পত্র নেয়ার আবেদন করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের নমুনা বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে জমা দিয়ে পরীক্ষণ ফি ও ছাড়পত্র ফি (অফেরতযোগ্য) পরিশোধের রসিদ সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এরপর বিএসটিআই পণ্য খালাসের জন্য সাময়িক ছাড়পত্র প্রদান করবে। তবে পণ্য পরীক্ষণের পর বাংলাদেশ মান অনুযায়ী উত্তীর্ণ হলে চূড়ান্ত ছাড়পত্র প্রদান করা হবে।
এদিকে সাময়িক ছাড়পত্রের ভিত্তিতে খালাস করা হলেও চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত সেই পণ্য গুদামে সংরক্ষণ করতে হবে। অন্যথায় বিএসটিআই আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে এবং পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের অনুকূলে আর কোনো সাময়িক ছাড়পত্র দেয়া হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি থেকে পণ্য খালাসের জন্য বিএসটিআইয়ের নমুনা পরীক্ষার চূড়ান্ত ছাড়পত্র অনলাইনে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মানে হলো অনলাইনে ছাড়পত্র জমা দেয়া না হলে শুল্কায়নের সুযোগ নেই কাস্টমস কর্মকর্তাদের। এ ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে সময় লাগায় আমদানিকারকদের ক্ষতিপূরণ গুনতে হয়। কারণ সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে সব মিলিয়ে নয়দিন লেগে যায়।